পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বিবিধ পণ্য পরিবহন পারমিট ফিসের ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দরদাতার প্রস্তাবিত দর উপেক্ষা করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছলেমান আলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন ইসলাম সরকারি রাজস্ব কমিয়ে রেজুলেশন প্রস্তুত করেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনার সময় বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন ৪৬.৭.৭৭১৯০.৪০.২০২৪-৯২ নম্বর স্মারকে ইউনিয়নের বিবিধ পণ্য পরিবহন পারমিট ফিস ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দরপত্র গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত। একই দিন সিডিউল বিক্রির শেষ সময় ছিল এবং ৩০ জুন দরপত্র খোলা হয়।
দরপত্রে মোট ১১ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ইউনিয়নের বটতলী গ্রামের নেজামদ্দীনের ছেলে আতাউর রহমান ১৬০০০১৪ নম্বর আইডিতে ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র গৃহীত হওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ না করেই ইজারাগ্রহীতা টোল আদায় শুরু করেন। তবে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার পরিষদে ইজারা সংক্রান্ত আলোচনায় ইউপি সদস্য আইবুল হক, আব্দুল মমিন, ওবায়দুল হক এবং সংরক্ষিত সদস্য রুপি ও নাসিমা বেগম জানান, ইজারার অর্থ ২০ লাখ টাকায় নির্ধারণের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। তাদের কাছে শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
ইজারাগ্রহীতা আতাউর রহমান দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়েই তিনি টোল আদায় করছেন। অনুমতিপত্র ও সময় বৃদ্ধির স্ট্যাম্প থাকার কথাও জানান তিনি। তবে সাংবাদিকরা সেই কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা প্রদর্শন না করে উত্তেজিত আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে আলোচনা সভায় আরও জানা যায়, ইজারাগ্রহীতার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ না করে স্থানীয় বিএনপি সভাপতি মাসুদের কাছে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে পরিষদ এ বিষয়ে কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি সভাপতি মাসুদ বলেন, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি নন এবং তার কাছে কোনো ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার নেই। তার ভাষ্য, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের অংশ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সম্মতিক্রমেই দাখিল করা দর কমানো হয়েছে। এছাড়া গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতিকে বৈঠকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে চেয়ারম্যান ছলেমান আলী দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ইজারা দরপত্রে জমা দেওয়া সর্বোচ্চ দর কমানোর কোনো বিধান নেই। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন