জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কঠোর শাসক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় পরিবর্তনের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে বৈঠকটিকে দেখা হচ্ছে।
মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। তার সময়ে সরকার ক্রমেই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। একই সময়ে তার দুবারের পুনর্নির্বাচনও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রড্রিগেজ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধিদল ‘মতপ্রকাশের বহুত্ববাদকে উৎসাহিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আরও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের পরিবেশ সুসংহত করার’ বিষয়ে আলোচনা করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকের মাধ্যমে ‘শান্তি, কূটনীতি এবং বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা’ হয়েছে।
মাদুরোর পূর্বসূরি বামপন্থী বিপ্লবী নেতা হুগো শ্যাভেজ ২০০৮ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে মিগেল ভিভাঙ্কোকে ভেনেজুয়েলা থেকে বহিষ্কার করেছিলেন।
শ্যাভেজের শাসনামলে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভেনেজুয়েলায় প্রবেশও সীমিত করা হয়েছিল।
ক্ষমতায় আসার পর রড্রিগেজ বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে কুখ্যাত এল হেলিকয়েড কারাগার বন্ধের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মাদুরোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই কারাগারে বন্দিদের নির্যাতন করত।
বৃহস্পতিবার রড্রিগেজ সরকার আরও জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে সেন্সর করা কিছু সংবাদ ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা চলতি সপ্তাহে বলেছেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশটিতে এখনো ‘দমনমূলক ব্যবস্থা’ বহাল রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বেআইনি আটক ও গুমের ঘটনা ঘটছে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মধ্যে রড্রিগেজ সরকার দেশ পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার খনি, তেল ও বিদ্যুৎ খাত বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন