পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে দেশে গণতন্ত্র বিপর্যস্ত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে দেশে গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিতর্কিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
এরপর গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মান পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জার্মান বুন্দেসটাগের সদস্য নিকলাস কাপ্পের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন গেরোল্ড ওটেন, ইয়োহান সাথফ ও উলে শাউস।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই জার্মানি বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য জার্মানি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ইতিহাস তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে এবং তাদের দৃঢ় মনোবলের কারণেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্পিকার বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
বর্তমান সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে তিনি জানান, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে জার্মান প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় কূটনীতি জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করে। এ ছাড়া বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও মতবিনিময় হয়।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন