শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে সেই জটিলতার মধ্যেও দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তার একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে নভেম্বরের সুবিধাজনক কোনো সময়ে তার নয়াদিল্লি সফর নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সফর আয়োজনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। এরই মধ্যে তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেক প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ থেকে সেখানে কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অনুকূল সময়ে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি তার দেওয়া একটি বক্তব্যের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাসহ তার প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
দ্য হিন্দুর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, লন্ডনে নির্বাসনে থাকার সময় থেকেই ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন তারেক রহমান। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরপরই তিনি তার একজন প্রতিনিধিকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া ওই নির্বাচনের দুই মাস আগে বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন।
দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের জনগণের ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন’ জানানোর জন্য ভারতকে আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে ২০১৮ সালেও আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফর করেছিল।
মন্তব্য করুন