অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জলভিত্তিক পর্যটনে হাউজবোট মেলা

দেশের জলভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ, হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ হাউজবোট মেলা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের শৈলপ্রপাত হলে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এইচওএবি) আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, দেশের হাওর, নদী ও জলাভূমিকে ঘিরে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে জলভিত্তিক পর্যটনের উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, কাপ্তাই লেকসহ দেশের বিভিন্ন জলাভূমি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও এবারের মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব হাউজবোট পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও জানান, এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে বিভিন্ন ধরনের হাউজবোট সেবা, পর্যটন প্যাকেজ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রকৃতিনির্ভর ও টেকসই পর্যটনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের নদী, হাওর ও লেকভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। তবে এজন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, মানসম্মত সেবা, নিরাপত্তা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর, কাপ্তাই লেকসহ দেশের বিভিন্ন জলাভূমিকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের আওতায় আনা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই জলভিত্তিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং হাওর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পীরগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন পাইলট উচ্চ বিদ্যা

1

তেঁতুলিয়ায় শিক্ষক সমিতির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ফেসবুকে শিক্ষকদে

2

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

3

তদন্ত ছাড়াই গ্রেপ্তারের অভিযোগ, থানার ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক

4

ইউসিবির ডিএমডি হলেন শফিকুর রহমান ও রীদওয়ানুল হক

5

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

6

নতুন বাংলাদেশ গড়তে কৃষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার: আ

7

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

8

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

9

বিজিবির অভিযানে উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা

10

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে খেলাফত মজলিসের শুভেচ্ছা

11

সত্য উদঘাটনই হোক ন্যায়বিচারের প্রথম শর্ত

12

জলভিত্তিক পর্যটনে হাউজবোট মেলা

13

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়াল খেলাফত মজলিস

14

কেন মেয়াদ শেষের আগেই পদ ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

15

ব্যস্ত দিনের শেষেও শিক্ষার্থীদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

16

অক্টোবরেই শুরু হতে পারে ইউপি ভোট, মার্চের মধ্যে শেষ তিন স্তর

17

তিন দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল শ্রমিকদের ৪ ঘণ্টার কর্মবি

18

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

19

নাদিমা খানের ওপর হামলায় আসকের উদ্বেগ

20