অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অক্টোবরেই শুরু হতে পারে ইউপি ভোট, মার্চের মধ্যে শেষ তিন স্তরের নির্বাচন

আগামী অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের চিন্তা রয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবার ইউপি, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন অঞ্চলভেদে একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রতিটি ধাপের মধ্যে তুলনামূলক বেশি সময়ের ব্যবধান রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ধাপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন শাখার উপ-সচিব মো. মনির হোসেন একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল—যেমন সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পানি থাকায় নৌপথে যোগাযোগ সুবিধাজনক থাকে। অন্যদিকে পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল—রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়কাল নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযোগী।

এছাড়া নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল—কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, চাঁদপুর এবং রাজবাড়ীর চরাঞ্চলে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে নির্বাচন উপযোগী ধরা হয়েছে। সমতল ও শহরাঞ্চলে বর্ষাকাল বাদে বছরের যেকোনো সময় ভোট গ্রহণ সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করে সমন্বয়ের ভিত্তিতে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তফসিল ঘোষণার আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ধাপ চূড়ান্ত করা হবে। সাধারণত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুল-কলেজে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এ সময় নির্বাচন এড়িয়ে চলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণাও বিবেচনায় রাখা হবে। হাওর ও পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক বাস্তবতাও গুরুত্ব পাবে।

ইসি সচিবালয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অতীতে এক ধাপ থেকে আরেক ধাপের নির্বাচনের ব্যবধান কম থাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ব্যালট পেপার পরিবহনের মতো কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় দায়িত্ব পালনে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এবার ধাপগুলোর মধ্যে বেশি সময় রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ প্রস্তাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে নীতিগতভাবে ইউপি নির্বাচন দিয়ে ভোট কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ অক্টোবর ভোট শুরু ধরা হলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও আইন সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রস্তুতির সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অক্টোবরে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে এবং ইউপি নির্বাচন দিয়েই ভোট শুরু হতে পারে। এছাড়া কয়েকটি বিধিমালা সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সবকিছুই কমিশনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে চূড়ান্ত হবে।

বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউপি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নির্বাচন উপযোগী হবে।

দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভায় আপাতত নির্বাচন সম্ভব নয়।

এদিকে নতুন পাঁচটিসহ বর্তমানে দেশে মোট ৫০০টি উপজেলা রয়েছে এবং সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। নতুন উপজেলা হিসেবে যুক্ত হয়েছে বগুড়ার মোকামতলা, কক্সবাজারের মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ।

অন্যদিকে নতুন বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ বর্তমানে দেশে মোট ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে এবং সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। ইউপি ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এ নির্বাচন আপাতত অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। একইভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, আর নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন। তাই কমিশন নিজস্ব প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার থেকে সিদ্ধান্ত এলেই ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে উভয় পক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাংবাদিক মাহবুব আলম লাবলুকে হয়রানির নিন্দায় ডিআরইউ

1

শিপিং রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাবিব, সম্পাদক রাকিব

2

বালোগুন ইস্যুতে ফিফার বিরুদ্ধে নরওয়ে, তদন্তের মুখে ইনফান্তিন

3

নিখোঁজ ৪ ছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, পাচারচেষ্টার প্রাথমিক সন্দেহ

4

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

5

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

6

সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি

7

ফুলবাড়ীতে স্বামীর খুন্তির আঘাতে গৃহবধূ নিহত, স্বামী আটক

8

সরকারের ব্যর্থতায় দেশ আতঙ্কের জনপদ: সিপিবি সভাপতি

9

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

10

ফুলবাড়ীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

11

বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে চায়

12

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

13

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

14

বিসিবিকে না জানিয়ে চীন সফর, ব্যাখ্যা দিলেন লিটন

15

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

16

পীরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

17

গণভোটে অনড় শফিকুর, আপসের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

18

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

19

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, অচেতন রোগীকে এক

20