পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাল্যবিবাহের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ। একই সঙ্গে কিশোরীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রাখার শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দালাল অফিসের পূর্ব পাশে গবরানদী সংলগ্ন সাহেবজোত গ্রামের এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ। পরে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার এবং কিশোরীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রাখার শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এ সময় ইউপি সদস্য মনসুর আলী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, পঞ্চগড়ের নোটারি পাবলিক আইনজীবীর মাধ্যমে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মাইজপাড়া সেলামতি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুর রাব্বির সঙ্গে ২ লাখ ১০১ টাকা দেনমোহরে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ওই ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ে হয়। কিশোরীটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাথাফাটা গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে।
তবে কিশোরীর বড় ভাই ও চাচা মকসেদ আলী জানিয়েছেন, তারা বিয়ের বিষয়ে কিছু জানতেন না। তাদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে রুহুল আমিন মেয়েকে নিয়ে কোথাও চলে যান। পরে কিশোরীর খালু কাপড় ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও খালাতো ভাই এনটিভির সাংবাদিক রবিউল ইসলামের বাড়িতে মৌলভী ডেকে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পারেন।
তাদের অভিযোগ, রুহুল আমিন ও মনির হোসেনের যোগসাজশে ছেলেটির সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভনে গোপনে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভী ডেকে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বাল্যবিবাহ মেনে নেবেন না এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
কিশোরীর চাচা মকসেদ আলী বলেন, “কিশোরী আমার ভাতিজি। তার বিয়ে হবে, আমরা জানব না—এটা কীভাবে হয়? ১৩/১৪ বছরের একটি কিশোরী মেয়েকে তার খালু মনির হোসেন ও খালাতো ভাই সাংবাদিক রতন কীভাবে বাল্যবিবাহ দিতে পারে, আমরা এর উপযুক্ত বিচার কামনা করছি।”
অন্যদিকে, কিশোরীর খালু মনির হোসেন বাল্যবিবাহের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতনও বিয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হোটেলে থাকা অবস্থায় জানতে পারেন, মেয়ে ও ছেলেকে কোর্ট ম্যারেজ করে নিয়ে আসা হচ্ছে। তার বাবা-মায়ের কেউ সেখানে যাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
রবিউল ইসলাম রতন আরও বলেন, তার ছোট ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খেতে এসে সেখান থেকে তারা তাদের বাড়িতে আসেন বলে তিনি জানতে পারেন। সকালে তিনি জানতে পারেন, কিশোরীর বড় ভাই ও চাচাকে বিয়ের বিষয়ে জানানো হয়নি। এরপর তারা এসিল্যান্ডকে বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, “এখানে ওর ফ্যামিলি কোর্ট ম্যারেজ করে নিয়ে আসছে কিনা, ওর ফ্যামিলি জানে। আমাদের বাসায় আত্মীয় হিসেবে আসছে, আমরা আত্মীয় হিসেবে রাখছি।” বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশে কোনো সমস্যা নেই বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ সাংবাদিকদের বলেন, বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রাখার শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন