দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে ‘ভয়াবহ’, ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘অস্ট্রেলীয়দের মতো নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারের পর নিজ দেশের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। তাঁর মতে, পুরো সিরিজে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হতাশ হয়েছেন দলের বোলাররা।
ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল ২৮৮ রান। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট হারায় প্যাট কামিন্সের দল। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হারে অস্ট্রেলিয়া। ফলে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
রাবাদার প্রথম স্পেলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার ট্রাভিস হেডকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। এই ম্যাচেই টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয়ে নিজেদের ভুলও ভূমিকা রেখেছে। ক্যামেরন গ্রিনের ভুল আহ্বানে রান নিতে গিয়ে রানআউট হন জশ ইংলিস। তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪ রান। এরপর স্পিনার সাইমন হারমারের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ২ রান করা অ্যালেক্স ক্যারি ক্যাচ দেন। পরের বলেই কুপার কনোলিকে ফিরিয়ে দেন হারমার।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৬০ রান। তখন ফক্স স্পোর্টসে সাবেক সতীর্থদের পারফরম্যান্সের তীব্র সমালোচনা করেন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ওয়ার্নার।
তিনি বলেন, ‘এটা ভয়াবহ। এটা অস্ট্রেলীয়দের খেলা নয়। লড়াই করার কোনো মানসিকতাই ছিল না। এটা লজ্জাজনক। পুরো সিরিজে ব্যাটাররা বোলারদের হতাশ করেছে। প্রথম টেস্টে (ম্যাট) রেনশ কিছুটা লড়াই দেখিয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, ব্যাটাররা পুরোপুরি লজ্জাজনক পারফরম্যান্স করেছে।’
এরপর বেশ কিছুক্ষণ রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। একপর্যায়ে ৫০ মিনিটে মাত্র এক রান সংগ্রহ করে দলটি। তবে সাইমন হারমারের বোলিং সামলাতে পারেনি তারা। শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান তিনি। এ জন্য খরচ করেন মাত্র ১৬ রান। ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ১০ উইকেট।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এই পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার সামনে অপেক্ষমাণ ব্যস্ত টেস্ট সূচির শুরুতেই বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। আগামী ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে দলটি। এরপর ভারত সফরে পাঁচ টেস্ট, মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ ম্যাচ এবং পরবর্তী গ্রীষ্মে অ্যাশেজ সিরিজ রয়েছে।
কেপটাউনের এই পরাজয় আগামী সিরিজগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ও দলীয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তিন ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ শেষে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও সুসংহত করেছে প্রোটিয়ারা।