ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া মিড ডে মিল কর্মসূচিতে শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য চালু এ কর্মসূচিতে সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের মতে, নিয়মিত খাবার পাওয়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিল কর্মসূচির খাবার পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত খাবার পাওয়ায় শিশুদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠাকুরগাঁও জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শুধু বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর আওতায় উপজেলার ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের পাঁচ ধরনের খাবার দেওয়া হয়। খাবারের তালিকায় রয়েছে ডিম, কলা, বনরুটি, বিস্কুট ও দুধ। এর মধ্যে ডিম, বনরুটি ও কলা সরবরাহ করছে ইএসডিও। বিস্কুট সরবরাহ করছে প্রাণ। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে ইউএইচটি দুধ।
তবে কিছুদিন আগে ইউএইচটি দুধ পান করার পর অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর আপাতত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে খাবার সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্কুল ফিডিং প্রকল্পের সমন্বয়ক মো. নূর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইএসডিওর একটি দল নিয়মিত পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। খাবারের মান নিশ্চিত হওয়ার পরই তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান আরও উন্নত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে খাবারের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পেয়ে শিশুরা আনন্দিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি সুস্থ ও সুনাগরিক হিসেবে শিশুদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষকরাও জানিয়েছেন, নিয়মিত মিড ডে মিল চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বেড়েছে। খাবারের সময়টি শিশুদের কাছে আনন্দের হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত খাবার পাওয়ার সুযোগটি গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার হাতে পেয়ে শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ নিয়ে খাবার গ্রহণ করে। শিক্ষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ নয়; বরং শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য খাবারের মান বজায় রাখা এবং কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, বালিয়াডাঙ্গীর ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য চালু হওয়া এ কর্মসূচি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
মন্তব্য করুন