ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ কাঁচা সড়কের দুরবস্থা দীর্ঘদিনের। বর্ষা এলেই অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে এসব রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়নের পরিবর্তে উপজেলা পরিষদ চত্বর, পুকুরপাড় সৌন্দর্যবর্ধন, ইউএনওর সরকারি বাসভবন সংস্কার এবং প্রশাসনিক ভবনের সজ্জাকরণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামের মানুষ যখন কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন, তখন বিলাসী ও দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয় জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলায় মোট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৪৩ কিলোমিটার পাকা, ৬৭৮ কিলোমিটার কাঁচা এবং ৮ কিলোমিটার অন্যান্য সড়ক। তবে উপজেলার অধিকাংশ কাঁচা সড়কের অবস্থা এখনও নাজুক।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাইলের পর মাইল কাঁচা সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতবাড়ি। উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এসব রাস্তা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলো কাদা ও পানিতে ডুবে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অটোরিকশাও দুর্গম কাঁচা সড়কে যেতে চায় না। এতে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও এডিপির আওতায় সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের পরিবর্তে দৃশ্যমান সৌন্দর্যবর্ধনমূলক প্রকল্পকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সায়েম বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। গ্রামীণ সড়ক অবহেলিত রেখে উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্যবর্ধনে অগ্রাধিকার দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, “উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুবিধা ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতেও নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন