অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফুলবাড়ীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পে-প্রেসক্রিপশনের কাজের কথা বলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬১২ জন শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। উত্তোলিত অর্থের ব্যয় ও অবশিষ্ট টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।


দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পে-প্রেসক্রিপশন-সংক্রান্ত কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ৬১২ জন শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা হিসাবে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অর্থ কার কাছে রয়েছে, কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং কত টাকা অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, পে-প্রেসক্রিপশনের কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করতে বিশেষ ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করতে হবে—এমন কথা বলে শিক্ষক সমিতির নাম ব্যবহার করে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকেরা নিজেরাই অনলাইনে এ কাজ সম্পন্ন করছেন।

এ বিষয়ে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের কোনো অনৈতিক আলোচনা হয়নি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। সমিতির নাম ব্যবহার করে টাকা সংগ্রহ করা হয়ে থাকলে তাঁকে না জানিয়েও তা করা হতে পারে। তবে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেন।

অন্যদিকে, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দলদলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম জানান, শিক্ষকদের কাজ সহজ করার জন্য অনলাইন খরচ ও নাশতার ব্যয় মেটাতে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সংগৃহীত অর্থ বর্তমানে কার কাছে রয়েছে, কীভাবে তা ব্যয় করা হয়েছে কিংবা কত টাকা অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দিবস পালন ও বই বিতরণসহ নানা উপলক্ষে বিদ্যালয়প্রতি অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এসব টাকা কোথায় রাখা হয় এবং কোন খাতে ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে তাঁদের জানানো হয় না।

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতা নিয়মিত পাঠদান না করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের আশপাশে সময় কাটান। তাঁদের দাবি, সমিতির নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেননি।

শিক্ষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থের পরিমাণ, ব্যয়ের খাত এবং অবশিষ্ট টাকার অবস্থান নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপকূলের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ডকে আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

1

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু

2

সরকার ও দল সামলাতে নতুন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

3

বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা না দেওয়ার দাবি গণতান্ত্রিক বাম

4

নবম পে স্কেল কার্যকর কবে? যা জানা গেল

5

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত

6

পীরগঞ্জ বিট কর্মকর্তা মহসিনের উদ্যোগে ১.৩৯ একর বনভূমি উদ্ধার

7

কেন মেয়াদ শেষের আগেই পদ ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

8

প্রেস কাউন্সিলে সাংবাদিক নিবন্ধনের প্রস্তাব

9

কিউ-ক্যাশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত, দ্রুত সেবা চালুর নির্দেশ

10

সংসদে সময় বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ, ওয়াকআউটের ব্যাখ্যা জামায

11

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

12

একনেকে ১.৬৮ লাখ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

13

১৮ বছর পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সঙ্গে রড্রিগেজের বৈঠক

14

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি নয়, স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের প

15

আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক সংস্কারে ১,২৭৬ কোটি টাকার প্

16

পীরগঞ্জে হতদরিদ্রদের ৭ গরু ও নিমের চারা বিতরণ

17

রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে এসআরবির পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

18

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দে

19

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

20