জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বৈষম্য এবং বিরোধী দলের নির্ধারিত সময় কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (২৮ জুন) রাতে সংসদে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৯ জুন) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের জন্য নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওইদিন তাদের দলের মাত্র তিনজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পান।
অন্যদিকে, সরকারদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নাজিবুর রহমান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা অতিক্রম করার পরও সরকারদলীয় সদস্যদের নিয়মের বাইরে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ববর্তী সমঝোতার পরিপন্থি।
সংসদে বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। নাজিবুর রহমানের দাবি, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি অনুসরণ না করেই বিল সংসদে আনা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিল পর্যালোচনা ও আপত্তি জানানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করে প্রতিনিয়ত নতুন বিল আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার ঘটনাকেও ওয়াকআউটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
অন্যদিকে, জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আগের দিনের ঘটনাটি দেশের সংসদীয় ইতিহাসে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্ধত্যপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারদলীয় সদস্যদের এমন আচরণের প্রতিবাদেই মূলত ১১ দলীয় জোটের সব সদস্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হন।
শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে জনগণের কথা তুলে ধরতে এসেছেন। কিন্তু সেখানে যদি ন্যায্যভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে সংসদে অবস্থানের যৌক্তিকতা থাকে না। জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন