ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টির ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৪৬ ভোট।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত ১২০টি কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়। আসনটির মোট ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২০টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ ভোট। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৪৬ ভোট।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
ভোট দেওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
নির্বাচন চলাকালে একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া প্রতীকসংবলিত ভোটার স্লিপ বিতরণ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াতের এক নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্ব পালন করেন ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ২৫১ সদস্য, পুলিশের ২ হাজার ২৭২ সদস্য এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪৬৫ সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্বে ছিলেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
এদিকে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ব্যাপারে জানা যায়নি। কোনো ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি।’
ভোটারদের পরিচয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে থাকা এজেন্টদের বিষয়টি বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ১৬ বছর বয়সীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের পর তারা একটি কার্ড পান। সেই কার্ড নিয়ে কয়েকজন কেন্দ্রে গেলেও ভোটার না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। এর সঙ্গে ভোটগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন