গত বুধবার রাজধানী ম্যানিলা থেকে পর্যটনকেন্দ্র কোরনের উদ্দেশে যাত্রা করা এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে আগুন ধরে যায়। ওই সময় ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন।
শনিবার কোস্ট গার্ড জানায়, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৪৩ জনের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনো ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বিষাক্ত ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে ফেরিটির ভেতরে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। এ কারণে শুক্রবারের আগে তারা ফেরিতে প্রবেশ করতে পারেননি।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা জেরোনিমো তুভিলা বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ বের করাই বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
কোরনের পর্যটন কর্মকর্তা ক্রিস্টিন অ্যাবলানা জানান, ব্যক্তিগত সামগ্রী ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নিশ্চিত করতে পারেন যে এই ছবি বা এসব জিনিসপত্র তার স্বজনের, তাহলে তাকে ডিএনএ নমুনা দিতে বলা হবে।’
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবায়াব জানান, ফেরিটির একটি কার্গো হোল্ড থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা প্রথমে একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন। এরপর ধোঁয়া দেখা যায় এবং খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যারা ফেরি থেকে বের হতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদের অনেকেরই লাইফজ্যাকেট পরার সুযোগ হয়নি।
উদ্ধারকারী একটি নৌকায় তুলে নিরাপদ স্থানে নেওয়া এক ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, আগুন লাগার পর ফেরির ভেতর থেকে আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আতঙ্কিত মানুষের চাপে তিনি পদদলিতও হন।
২০০২ সালে নির্মিত ফেরিটির বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছিল এবং গত মার্চে এটি একটি পরিদর্শনেও উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা যাত্রী তালিকায় কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না, কার্গো যথাযথভাবে বোঝাই করা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রু সদস্যরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছে পালাওয়ান ডেইলি।
ফেরিটিতে ১১৭ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আতিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
মন্তব্য করুন