সরকারি সেবা ও প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বর্তমান সরকারের প্রথম সচিব সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
সরকারি সেবা ও প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বর্তমান সরকারের প্রথম সচিব সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ে সচিব সভা শুরু হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক সন্ধ্যা ৬টার দিকে শেষ হয়। সভায় অন্তত ৬১ জন সচিব অংশ নেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সচিব জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে দুদককে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাতে বলেন।
সভা সূত্র জানায়, শিগগিরই এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠাবে দুদক। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও দুদকের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোলায় নির্বাচনি এলাকায় দেওয়া এক বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুসখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’
এরপর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সচিব সভাতেও বিষয়টি উঠে আসে। সভায় কোনো কোনো সচিব মত দেন, বর্তমান বাস্তবতায় প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ে এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সচিব সভায় সরকারি চাকরির শূন্যপদ দ্রুত পূরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি অফিসগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়েও সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জাগো নিউজকে বলেন, সচিবদের এ বৈঠক মূলত অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তাগিদ দেওয়ার জন্য আয়োজন করা হয়েছে। কীভাবে কাজের দক্ষতা আরও বাড়ানো যায় এবং কোন কাজ কীভাবে করতে হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো নিয়ে দপ্তরে সাধারণত কাঠামোবদ্ধভাবে আলোচনা হয়। তবে এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুতের চলমান সমস্যা এবং পরদিন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কীভাবে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেক সচিবের নিজ নিজ জেলার জন্য যে দায়িত্ব রয়েছে, সেসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে কথা বলে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং সংস্কারের উপাদানগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে কাজ করে পরবর্তী সময়ে জানাতেও বলা হয়েছে, যাতে সবাই মিলে কাজের মান আরও উন্নত করতে পারে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর প্রথমবারের মতো সচিবদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়।