সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে রয়েছে। অর্থ বিভাগের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অর্থাৎ, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরই নবম পে স্কেল কার্যকরের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হবে।
গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস সম্পর্কে আলোচনা হয়।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আইএমএফের কোনো সরাসরি আপত্তি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই। সংস্থাটি কেবল অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ কীভাবে জোগান দেওয়া হবে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কমিটির সুপারিশ বর্তমানে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন, আইন, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় কাজ সম্পন্ন করছে বলে তিনি জানান।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি এবং নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘বেতন কাঠামোর কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারি করতে বেশি সময় লাগবে না।’
বেতন কাঠামো নিয়ে ঘন ঘন আলোচনা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুই দিন পরপর বেতনকাঠামো নিয়ে কথা বলতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে একেক গণমাধ্যম একেকভাবে সংবাদ প্রচার করছে, করুক। আমি একবারেই কথা বলব।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫৫০ কোটি ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির পাঁচটি কিস্তি পাওয়ার পর পরবর্তী অর্থ ছাড় স্থগিত রয়েছে। একই সময়ে সংস্থাটির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ আলোচনা আরও এগিয়ে যেতে পারে।
তবে এখনো সরকার নবম পে স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন