ক্লাসের ফাঁকে কাগজ ভাঁজ করে ছোট্ট একটি উড়োজাহাজ বানিয়ে বন্ধুদের দিকে ছুড়ে মারার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। শৈশব কিংবা ছাত্রজীবনের সেই পরিচিত খেলাই এবার জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব রেকর্ডের ইতিহাসে।
ইতালির পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী দেখিয়ে দিয়েছেন, কাগজের প্লেন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; সঠিক পরিকল্পনা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রকৌশল জ্ঞানের সমন্বয়ে এটিও হতে পারে বিস্ময়কর এক সৃষ্টি। তাঁদের নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাগজের উড়োজাহাজ এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নতুন মাইলফলক।
নিজেদের উদ্যোগের নাম রাখা হয়েছিল ‘প্রজেক্ট ইকারুস’। এই উদ্যোগে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার জ্যাকিডেল।
দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা, গবেষণা এবং একের পর এক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁরা তৈরি করেন বিশাল আকৃতির একটি কাগজের উড়োজাহাজ, যা শুধু আকারেই নয়, উড্ডয়ন ক্ষমতাতেও সবাইকে বিস্মিত করেছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির ডানার বিস্তার ৬৫ দশমিক ৭৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পুরো উড়োজাহাজটি তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র কাগজ ও আঠা ব্যবহার করে। এতে কোনো ধাতব কাঠামো কিংবা আধুনিক যন্ত্রাংশের ব্যবহার করা হয়নি।
ইতালির বোলোনিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘উই মেক ফিউচার’ মেলায় ‘বোলোনিয়াফিয়েরে’ প্রাঙ্গণে বোয়িং বিমানের আদলে তৈরি এই বিশাল কাগজের উড়োজাহাজটি উড়ানো হয়। সবার সামনে এটি প্রায় ১৯৩ দশমিক ৫ ফুট বা প্রায় ৫৯ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এই সফল উড্ডয়নই এনে দেয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি।
এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় ১৩ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে ২০১৩ সালে জার্মানির ব্রাউনশভেইগ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বড় কাগজের উড়োজাহাজ তৈরির রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার সেই সম্মান নিজেদের করে নিল ইতালির এই তরুণ দল।
রেকর্ড গড়ার পর প্রজেক্ট ইকারুসের সদস্যরা জানান, তাঁদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্লাসরুমে মজার ছলে বানানো কয়েকটি কাগজের প্লেন দিয়ে। তবে শুরু থেকেই তাঁদের বিশ্বাস ছিল, সঠিক নকশা ও প্রকৌশল প্রয়োগ করা গেলে এক টুকরো কাগজও অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করতে পারে।
তাঁদের ভাষ্য, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মাসের পর মাস গবেষণা, নকশা প্রণয়ন, সিমুলেশন, অসংখ্য ব্যর্থতা এবং প্রতিবার নতুন করে শুরু করার মানসিকতা।
শেষ পর্যন্ত সেই অধ্যবসায়ই এনে দিয়েছে বিশ্ব রেকর্ডের গৌরব। ক্লাসরুমের পরিচিত কাগজের প্লেন আজ আর শুধু একটি খেলনা নয়; এটি হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনন্য প্রতীক।
এ কারণেই বলা যায়, বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সব সময় বড় উপকরণের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় এক টুকরো কাগজ, কল্পনাশক্তি, পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাই যথেষ্ট।
মন্তব্য করুন