বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অভিযোগ এখন ফিফার নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির তদন্তের মুখে পড়তে যাচ্ছে। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আগামী ৬ আগস্ট তাদের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিজ ক্লাভনেস বলেন, ‘ফিফা প্রধান (জিয়ান্নি ইনফান্তিনো) এখন স্পষ্টভাবে স্বীকার করা উচিত যে এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর নিয়ম অনুযায়ী বালোগুনের ওপর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করার পর সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। ফলে বালোগুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহুল আলোচিত এই বিতর্কের মাত্র ৩৬ ঘণ্টা পর বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হয় যুক্তরাষ্ট্র।
সমালোচকদের ধারণা, ফিফার এই সিদ্ধান্ত বেলজিয়ামের খেলোয়াড়দের আরও বেশি উদ্দীপ্ত করে তোলে এবং তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে উদ্বুদ্ধ হন।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার ভিত্তিতে রেফারি বালোগুনকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প ওই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে প্রভাবিত করার কৃতিত্বও প্রকাশ্যে নিজের বলে দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে লিজ ক্লাভনেস বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে এই রায় বাইরের শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং এতে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।’
উয়েফার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নরওয়ের সাবেক এই নারী ফুটবলার আরও বলেন, ‘যখন কোনো বড় দলের স্বার্থে নিয়মকে এভাবে পরিবর্তন করা হয়, তখন ফুটবলকে একটি অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দেওয়া হয় এবং পুরো খেলাটিই ঝুঁকির মুখে পড়ে।’
২০২২ সালে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আইনজীবী ও সাবেক বিচারক লিজ ক্লাভনেস বিশ্ব ফুটবলে নৈতিক অবস্থানের বিষয়ে সরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার ভাষায়, ‘ফুটবলের মৌলিক নিয়মের সঙ্গে আপস করা খেলাটির ভবিষ্যতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।’
এর আগেও ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে লন্ডনভিত্তিক একটি এনজিওর সঙ্গে যৌথভাবে ফিফা এথিক্স কমিটির কাছে অভিযোগ করেছিল নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। অভিযোগে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে বিশেষ ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার মাধ্যমে ইনফান্তিনো নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। এমনকি ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার জন্যও একজন যোগ্য প্রার্থী।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ফেয়ারস্কয়ার’ও বালোগুন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। ইনফান্তিনো আইওসির নির্বাচিত সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
ফিফা ও আইওসি সাধারণত নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির তদন্তাধীন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দ্বিতীয় বছরে ইনফান্তিনো প্রধান তদন্তকারী ও বিচারককে অপসারণ করার পর থেকেই ফিফার তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বালোগুন বা অন্য কোনো খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ফিফা কীভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে সম্পর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক নথিও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মন্তব্য করুন