পাথরভাঙা মেশিনের শব্দ দূষণ ও কংক্রিট ব্লক কারখানার ভাইব্রেশন সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার ৬ নম্বর ভজনপুর ইউনিয়নের সর্দারপাড়া (সেন্টার) এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স রফিকুল ট্রেডার্সের পাথরভাঙা মেশিন ও আদর্শ কংক্রিট ব্লক কারখানা দীর্ঘদিন ধরে শব্দ দূষণ ও ভাইব্রেশন সৃষ্টি করে আসছে। ব্লক তৈরির ভাইব্রেশনের কারণে কবিরুল ইসলামের বসতবাড়ির একটি কক্ষের দেয়াল ফেটে যাওয়ায় সেটি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি পাথরভাঙা মেশিনের অতিরিক্ত শব্দে কবিরুল ইসলামের পরিবারসহ আশপাশের কয়েকটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং মসজিদের মুসল্লিরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে কবিরুল ইসলাম চলতি বছরের ১১ মে ও ১০ জুন পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন জমা দিতে গেলে তিনি আবেদন করতে না পেরে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ করেন।
কবিরুল ইসলাম জানান, প্রথমবার অফিসে গেলে তাকে জানানো হয় সহকারী পরিচালক প্রশিক্ষণে জেলার বাইরে রয়েছেন। তখন অফিসের এক কর্মচারী তার আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিতে বলেন এবং জানান, স্যার ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে আবেদন পাঠিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি আবার যোগাযোগ করেন। দ্বিতীয়বার আবেদন নিয়ে গেলে সহকারী পরিচালক সেটি গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, স্টোন ক্রাশিং মেশিনের ধুলাবালি, বায়ু দূষণ ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের হলেও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন স্টোন ক্রাশিং মেশিন ও কারখানাগুলো কীভাবে চলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এদিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সাংবাদিক তরিকুল প্রধান অতিথির কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, শব্দ দূষণের শিকার কবিরুল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের কাছে আবেদন করতে গিয়ে তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। এ অভিযোগের পর জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুরের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়নি বলে জানান। তখন সাংবাদিক তরিকুল রেকর্ড ও অফিসের সিসি ফুটেজের বিষয়টি উল্লেখ করলে কবিরুল ইসলামের আবেদনটি অফিসে নিয়ে আসতে বলা হয়।
মন্তব্য করুন