নেত্রকোনার আটপাড়ায় কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ইবাদ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিনি আটপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিক ইবাদ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় গত বুধবার (২০ অক্টোবর) রাতে আটপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলার পোস্ট অফিস রোড এলাকায় ইবাদ হোসেনসহ আট থেকে ১০টি পরিবারের সদস্যরা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে একটি রাস্তা দিয়ে প্রধান সড়কে যাতায়াত করছেন। প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে পরিবারগুলো মিলে রাস্তার জন্য এক শতাংশ জমি কিনে নেন।
সম্প্রতি স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাস্তাটিতে ইটের সলিং করে দেয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর রাস্তার পাশের জমির মালিক শাহীন সুলতানা সুমি রাস্তাটি নিজেদের বলে দাবি করেন। পরে তাঁর চাচাতো ভাই চুন্নু খানসহ স্থানীয় কয়েকজন রাস্তা দখলের চেষ্টা করেন।
এ নিয়ে রাস্তা ব্যবহারকারী পরিবারগুলো আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত রাস্তাটির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চুন্নু খান স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ইবাদ হোসেনসহ আট থেকে ১০টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে পরিবারগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে।
পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা খুলে দেন।
সাংবাদিক ইবাদ হোসেনের অভিযোগ, রাস্তা খুলে দেওয়ার পর থেকে চুন্নু খান তাঁকে মুঠোফোনে ও সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত তাঁর ছোট ভাইকে যেকোনো মূল্যে চাকরি থেকে অপসারণ এবং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরে (আইএসপিআর) অভিযোগ করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ইবাদ হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছি। সাত-আট বছর আগে আমরা রাস্তাটির এক শতাংশ জমি কিনেছি। এরপরও রাস্তাটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন আমাকে প্রাণনাশের এবং আমার সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ভাইকে চাকরি থেকে অপসারণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।’
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চুন্নু খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুবায়দুল আলম বলেন, আট থেকে ১০টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার পর সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়। পরে হুমকির ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টিতে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন