রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সময় বরাদ্দ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একের পর এক সরকারি কর্মসূচি, সংসদ অধিবেশন এবং দীর্ঘ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরও দিনের শেষ প্রহরে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে কুমিল্লার লালমাই উপজেলা থেকে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে সরকারপ্রধানকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, জাতীয় সংসদের অধিবেশন সরাসরি উপভোগ করা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এভাবে সাক্ষাৎ করার সুযোগ তাদের কাছে ছিল কল্পনারও বাইরে। তারা এই মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অগ্রগতির খোঁজখবর নেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদেরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী দিনের দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সরাসরি দেখার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় লালমাই উপজেলার ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১২৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৪৩ জন শিক্ষক জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পান।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণকারীরা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, এলডি হল, বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত স্থাপত্য, মনোরম ক্রিসেন্ট লেক, অধিবেশন কক্ষ এবং সংসদ গ্রন্থাগার ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি তারা চলমান বাজেট অধিবেশনও সরাসরি উপভোগ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে সংসদে ওয়াকফ বিষয়ক প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা, দীর্ঘ সংসদ অধিবেশন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাত-সংশ্লিষ্ট বৈঠক এবং শেষে দীর্ঘ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
দিনজুড়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য সময় বরাদ্দের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আবারও তুলে ধরেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলাও তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।
মন্তব্য করুন