দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ করছে।
আগামীকাল ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রত্যেক জেলার পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পর্যটন খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের বিশাল ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি ও নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা এবং বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ এর সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
এ ছাড়া হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অসংখ্য নদ-নদী, সবুজ ফসলের মাঠ, ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য, মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশকে পর্যটকদের জন্য অনন্য গন্তব্যে পরিণত করেছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বব্যাপী নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে পর্যটন খাতও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদানের ধরন বদলে দিচ্ছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত ও আবাসনসহ পর্যটনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে এ বছরের ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’-এর প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি জানান, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ করার পাশাপাশি আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ এবং ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরও আরও দ্রুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তরকে সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে নিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
মন্তব্য করুন