অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত

মিয়ানমারে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হলো না টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের। দেশটির সামরিক বাহিনীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করার সন্দেহে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরেও অভিযান চালান তদন্তকারীরা।

নরওয়ের পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করার সন্দেহে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

একই ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস এবং পিএসটি নিরাপত্তা সংস্থা।

তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মিয়ানমারে জান্তা সরকার যখন বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছিল, তখন টেলিনর তাদের সহযোগিতা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কল ইতিহাস বা ট্রাফিক ডেটা জান্তা সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের মার্চে মিয়ানমার থেকে পুরোপুরি ব্যবসা গুটিয়ে নেয় টেলিনর।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। পুরো বিষয়টি ‘পরিষ্কার’ করতে তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

নরওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মিয়ানমারে টেলিনরের ব্যবসা বিক্রির চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নজরদারি সরঞ্জাম হস্তান্তরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ লেনদেনের জন্য নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি—এ বিষয়েও টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনরের বিরুদ্ধে ‘ক্লাস অ্যাকশন ল্য সুইট’ মামলা করে।

ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, টেলিনর মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ডাটা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে টেলিনর বলেছে, সামরিক অভ্যুত্থানটি মিয়ানমারের জনগণের জন্য একটি ট্র্যাজেডি ছিল। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি এমন এক অসম্ভব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে তাদের সামনে আর কোনো ভালো বিকল্প ছিল না।

টেলিনরের ভাষ্য, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মানলে কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে হতো। তাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না এবং কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা সম্ভব ছিল না।

টেলিনর আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের আওতায়ও নেওয়া হয়নি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোপন বিয়ে: ইসলামে কেন নিরুৎসাহিত?

1

আবেদন গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগ

2

১৭ বছরে গ্যাস কূপ খনন হয়নি: এস এম জিলানী

3

ঠাকুরগাঁও এলজিইডিতে অনিয়মের অভিযোগ, বছরজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়

4

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

5

কুমিল্লায় আ.লীগ নেতা স্বপন গ্রেপ্তার

6

স্বামীকে শেষবিদায় জানিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি

7

ফুলবাড়ীতে মাদ্রাসা, শিক্ষার্থী ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝ

8

নতুন প্রজন্মকে জিয়ার আদর্শ জানাতে বললেন মঈন খান

9

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া-খালেদার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্

10

সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

11

বোচাগঞ্জে এইচএসসি-আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য দোয়া মাহফিল

12

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

13

হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ, ভারতের প্রতি ক্ষোভ ঢাকার

14

ডাকসুর ফ্লোরে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি, পদদলিত করলেন শিক্ষার্

15

‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না’

16

পীরগঞ্জে কাস্তোর সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের দাবি

17

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

18

হালাল সনদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদ জানাল বিএসটিআই

19

বিনিয়োগ, জ্বালানি ও বাণিজ্যে তিন নতুন নীতিমালার অনুমোদন

20