শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল ফর এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় বিএসটিআইয়ের হালাল সার্টিফিকেশন নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হালাল সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ, অনুদান কিংবা রপ্তানিকৃত পণ্যের পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ দাবি করা হয়।
এছাড়া, হালাল সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে গাড়ি চাওয়া এবং ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগও প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএসটিআই।
রোববার (১৯ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএসটিআই আইন-২০১৮, প্রবিধানমালা-২০২২, সরকারি গেজেট, আন্তর্জাতিক মান ISO/IEC 17065 এবং প্রযোজ্য BDS OIC/SMIIC Halal Standards অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে হালাল সার্টিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিএসটিআই প্রবিধানমালা-২০২২ অনুযায়ী, হালাল লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদন ফি নেওয়া হয় না। সনদ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়।
এফবিসিসিআই প্রতিনিধি, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মুফতি প্রতিনিধি, পুষ্টি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রতিনিধি এবং বিএসটিআইয়ের টেকনিক্যাল প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল এবং একজন সমন্বয়কারী ফিল্ড অফিসারের মাধ্যমে স্টেজ-১ ও স্টেজ-২ অডিট সম্পন্ন করা হয়। অডিট শেষে পণ্যে কোনো নন-হালাল উপাদান রয়েছে কি না, তা জাতীয় হালাল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শরিয়াহভিত্তিক মূল্যায়ন শেষে প্রতিবেদনটি মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত ১৫ সদস্যের ‘ইমপার্শিয়াল কমিটি’ বা হালাল সার্টিফিকেশন কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। কমিটির অনুমোদনের পর প্রবিধানমালা অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করা হয়। নির্ধারিত ফি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য ১ হাজার টাকা, মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ হাজার টাকা এবং বৃহৎ শিল্পের জন্য ৫ হাজার টাকা। বিল পরিশোধের পর কিউআর কোডসংবলিত হালাল লাইসেন্স প্রদান করা হয়। রপ্তানিযোগ্য পণ্যের প্রতি মেট্রিক টনের বিপরীতে কোনো ধরনের ফি বা রাজস্ব আদায়ের বিধান নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএসটিআই আরও জানায়, যানবাহনের সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকায় কারখানা পরিদর্শনের সময় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কখনো কখনো তাদের নিজস্ব গাড়িতে অডিট টিম যাতায়াত করে। তবে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পরিদর্শনের ক্ষেত্রে অডিট টিম নিজস্ব ব্যয়ে বাস বা ট্রেনে ভ্রমণ করে। ফলে হালাল সনদের জন্য গাড়ি চাওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংবাদে উল্লেখিত ‘ইজি ফুড লিমিটেড’ এবং ‘বম্বে সুইটস লিমিটেড’—এই দুটি প্রতিষ্ঠানই বিএসটিআইয়ের কাছে হালাল সনদের জন্য কোনো আবেদন করেনি। তাই তাদের কোনো হালাল সনদও দেওয়া হয়নি।
এছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানির খুরশিদ আলম এবং ইজি ফুড লিমিটেডের কর্নধার জিয়া হায়দার এ ধরনের মন্তব্য করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, গণমাধ্যমে তাদের বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং তারা বিএসটিআইকে জড়িয়ে এমন কোনো অভিযোগ করেননি।
বিএসটিআইর ভাষ্য, অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হলে সংবাদটি আরও বস্তুনিষ্ঠ হতো এবং জনমনে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হতো না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। প্রতিটি আবেদন একই নীতিমালা, সরকারি ফি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন