বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার করা অনুরোধ ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ তথ্য উঠে এসেছে ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লোকসভায় উপস্থাপিত পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির নবম প্রতিবেদনে কমিটির সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর।
‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর যে অনুরোধ জানায়, সে বিষয়ে কী অগ্রগতি হয়েছে—তা জানতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল সংসদীয় কমিটি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
তার ক্ষমতাচ্যুতির পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ওই সময় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়।
পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকেও একই অনুরোধ পুনরায় জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছেন, বিভিন্ন বিবৃতি দিয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। তবে ভারত সরকারের দাবি, তাকে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, চরম সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া ভারতের মানবিক ঐতিহ্য ও সভ্যতাগত মূল্যবোধের অংশ। সেই নীতির আলোকে শেখ হাসিনাকে ভারতে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতি ভারত সরকার অনুসরণ করে। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছে, এ ধরনের বিষয়ে ভারত সরকার যেন মানবিক, নীতিনিষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মন্তব্য করুন