তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের শীর্ষ সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ, নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এবারের মেলার অন্যতম লক্ষ্য। বিটিটিএফ ২০২৬-এর টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিটিটিএফ ২০২৬-এর বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টোয়াব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ।
আয়োজকদের ধারণা, এবারের মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০-এর বেশি এক্সিবিটর, ২৫০-এর বেশি কোয়ালিফাইড বায়ার, ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটর এবং ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী অংশ নেবেন। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০টির বেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নেবে। ফলে বিটিটিএফ ২০২৬ পর্যটন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেলায় সার্বিক সহযোগিতা করবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
এ ছাড়া মেলার প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে থাকছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট। পিআর পার্টনার হিসেবে রয়েছে ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি এবং ট্রান্সপোর্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে কনভয় সার্ভিস।
এবারের বিটিটিএফে ২০টিরও বেশি দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও ফিলিপাইনের অংশগ্রহণকারীরা ইতোমধ্যে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান থেকেও পর্যটন অংশীজনরা মেলায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন অংশীদারদের উপস্থিতি বিভিন্ন গন্তব্যের প্রচার, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পর্যটন বাজারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
১৩ বারেরও বেশি সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন বাজার হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে এই মেলা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিটিটিএফ ২০২৬ বৈশ্বিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। এক্সিবিশন, বিজনেস-টু-বিজনেস নেটওয়ার্কিং, ডেস্টিনেশন প্রমোশন এবং অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করাই এবারের মেলার মূল উদ্দেশ্য।
মন্তব্য করুন