দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এমপিওভুক্ত না হওয়া, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদান না হওয়াকে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীর একটি, হাকিমপুরের দুটি, বিরামপুরের একটি এবং বীরগঞ্জ উপজেলার দুটি কলেজ রয়েছে।
ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও কলেজ শাখায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। সেখানে শুধু একজন অফিস সহকারীকে পাওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ১৯৯৯ সালে কলেজটির পাঠদানের অনুমতি এবং ২০০২ সালে স্বীকৃতি পাওয়া যায়। ২০২০ সাল পর্যন্ত কলেজটির ফলাফল ভালো ছিল। তবে দীর্ঘদিনেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না থাকায় তাঁরা নিয়মিত কলেজে আসেন না। এতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও কমে গেছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা বলেন, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ কমে গেছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও কলেজে আসে না। অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বাড়িতে থেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। এসব কারণেই এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের মতে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না থাকা, নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।