সাংবাদিক, লেখক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীতে ‘বৈষম্যহীন মর্যাদা সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে গণমাধ্যমকর্মী ও স্বাধীন সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য সরকারি ভাতা, অবসরকালীন পেনশন এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
রাজধানীতে সাংবাদিক, লেখক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে ‘বৈষম্যহীন মর্যাদা সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈষম্যহীন মর্যাদা সংলাপের মেন্টর হারুনূর রশিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন লেখক ও বুদ্ধিজীবী কালাম ফয়েজী, বাজার প্রতিদিন সম্পাদক রুহুল আমীন, সংলাপের সমন্বয়ক সাঈদ মামুন, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সংস্থার মহাসচিব সাইফুল ইসলাম মোজ্জেম, স্বাধীনতা পার্টির সভাপতি আবুল গফুর মিয়া, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক নাজিমুল হক, আক্যু চিকিৎসক হাওয়া বেগম এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও কবি শফিক সেলিমসহ অনেকে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা সব সময় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় তাঁরা মাঠে ও মাঠের বাইরে জনগণের সঙ্গে একযোগে আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখে আসছেন।
তাঁদের বক্তব্যে আরও বলা হয়, এসব আন্দোলন বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি রেনেসাঁর সফল গণঅভ্যুত্থান এবং দাসত্বমুক্ত সংস্কৃতির গণজাগরণের অংশ।
সংলাপ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রথম প্রস্তাবে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী, ফটোসাংবাদিক, সংবাদ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সমজাতীয় পেশাজীবীদের স্বাধীন গণমাধ্যম, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি রেনেসাঁর কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হলে অথবা কোনো কারণে সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের গ্রেড অনুযায়ী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর থেকে কর্মীদের মূল বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি পেশাজীবীদের মতো গণমাধ্যমকর্মীদের বয়সজনিত অবসরের পর এককালীন পেনশন ও মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। ভাতাভোগীর মৃত্যু হলে তাঁর স্ত্রী বা স্বামী আমৃত্যু ওই ভাতা পাবেন বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশি রেনেসাঁ ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক হিসেবে স্বাধীন পেশাজীবী কবি, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, গ্রামীণ কবিয়াল, বয়াতি, কিচ্ছা ও পালাগানের শিল্পী, উচ্চাঙ্গসংগীত সাধক, কাওয়াল, কীর্তন ও জারিগানের শিল্পী, লোকজ জ্ঞানী, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চিন্তক, বক্তা, গায়ক, অভিনেতাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা ও অবসরকালীন পেনশন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। ভাতাভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বা স্বামীকে আমৃত্যু ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়।
এ ছাড়া সাংবাদিক, লেখক, কবি, গায়ক, ধর্মীয় মূল্যবোধের বক্তা, ধর্মীয় নেতা, লোকজ জ্ঞানী এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নীতিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সংলাপের মাধ্যমেই এসব গণ-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র গঠন এবং শক্তিশালী জাতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পারস্পরিক সংলাপের আহ্বান জানান তাঁরা।