দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কোনো তড়িঘড়ি করতে চায় না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বৈঠক শেষে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।
মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্ব পালন করবেন।
শনিবার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলানিউজকে জানান, ছুটির দিনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। রোববার (২৬ জুলাই) অফিস খোলার পর স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠক হবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন যেমন অযথা তাড়াহুড়ো করবে না, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বিলম্বও করবে না। আলোচনার ভিত্তিতেই সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন প্রস্তাবক থাকতে হবে এবং ভোট দেবেন কেবল সংসদ সদস্যরাই। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি যাকে সমর্থন দেবে, তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিংবা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের জোট থেকে কোনো প্রার্থী না এলে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও অধিকাংশ সময় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানা যায়নি। তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরামই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন এবং দল সেটিকে বিশ্বাস করতে চায়।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়া এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বাক্ষরযুক্ত প্রস্তাব স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন ও আলোচনা হবে। অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দিতে পারবে। অভিযোগের শুনানিতে রাষ্ট্রপতির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে। তদন্ত শেষে সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার দিন থেকেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
মন্তব্য করুন