গতকাল বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয় ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট, যা সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট কম। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট।
হঠাৎ করে বিদ্যুতের এই ঘাটতির কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, আদানির একটি ইউনিট আবারও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে দেশের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে একযোগে নতুন করে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি আগের সমস্যাগুলোও বিদ্যমান রয়েছে।
জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এলএনডিসি) বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বুধবার রাত ১১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে। এক দিন আগেও এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি এরই মধ্যে কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ হয়ে গেছে। আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এক দিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল সেটিও বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া গ্যাস-সংকটের কারণে শুধু ঢাকা অঞ্চলেই অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ অথবা স্বল্প সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বিদ্যুতের এমন ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ কিছুটা কম থাকার পর লোডশেডিং আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলে দিনে চারবার করে বিদ্যুৎ চলে গেলেও গ্রামাঞ্চলে আবারও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং ফিরে এসেছে।
মন্তব্য করুন