ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। তাদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া এই অফিসে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। পাশাপাশি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে দালালচক্রের যোগসাজশে নানা অনিয়ম চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, জমির রেকর্ড, মাটপর্চা, খতিয়ান, মৌজার নকশাসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দালাল মো. শাহনাজ আলী এবং পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ফিরোজ বিন আনছারী একসঙ্গে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছেন।
সেটেলমেন্ট অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি নিয়ে ভূমির মালিকদের মাটপর্চা, খতিয়ান ও নকশার অনুলিপি দেওয়ার কথা। এছাড়া কিছু সেবা বিনামূল্যেও দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অতিরিক্ত টাকা ছাড়া এসব সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পীরগঞ্জ পৌরসভার মিত্রবাটি মৌজার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক ব্যক্তির সুইমিং পুলের কক্ষে বসে দালাল শাহজাহানের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ফিরোজ বিন আনছারী।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, সিটিজেন চার্টারে উল্লেখিত নিয়মের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ-সংক্রান্ত সেবায় সরকার নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য, ঘুষ ছাড়া জমির মাটপর্চা কিংবা মৌজার নকশা পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।
সেটেলমেন্ট অফিসের সামনে অবস্থানকালে দালালদের নিয়মিত আনাগোনাও দেখা যায়। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারা সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাংবাদিকের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে সার্ভেয়ার ফিরোজ বিন আনছারী ও দালাল শাহজাহান দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে নকশায় জমির পরিমাণ কম দেখানোর ভয় দেখিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অর্থের বিনিময়ে এক থেকে দুই শতক জমির গরমিল হলেও সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পলাশ কুমার রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও রোববার—অফিস করেন। সেসব দিনেও তিনি নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন