মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করতে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দেশীয় বাজারে ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) সম্পন্ন হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দ্রুত শেষ করে চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, হংকং, ওমান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় বাণিজ্যিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
মুক্তবাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কম শুল্কে প্রবেশের বিদ্যমান সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশ বাড়তি সময়ের সুযোগ দিলেও এসব সুবিধা নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পণ্যগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর ফলে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনাও বাড়বে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাম তেল আমদানি করে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য মালয়েশিয়ার অনুকূলে রয়েছে। এফটিএ কার্যকর হলে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগও তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন