স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও দল সমর্থিত প্রার্থী থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান। সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া বা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডাঃ জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। তবে দল সমর্থিত প্রার্থী থাকবে। ফলে এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে—এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনের তারিখ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তা পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ রায়ের সঙ্গে প্রতিশোধের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার এ রায়কে স্বাগত জানায় এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায়।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মামলায় পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। ভারতে পালিয়ে থাকা আসামিদের সে দেশের সরকার ফেরত দেবে বলে আশা করেন ডাঃ জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সহজীকরণের অন্যতম শর্ত।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যথেষ্ট সচেতন না হলে এ সংকটের সমাধান সহজ হবে না। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি (TGTDPLC) নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে ৭৪টি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৩টি অভিযান পরিচালনা করেছে।
অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের কারণে ১ হাজার ১১৯টি আবাসিক, ৬টি বাণিজ্যিক ও ১০টি শিল্প সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় ৪ হাজার ১০৯ ফুট পাইপ উচ্ছেদ করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ৩৭৪টি অভিযান পরিচালনা করে ২৫৮টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এসব ঘটনায় ৫৭টি মামলা করা হয়েছে এবং ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (তথ্য ও গণযোগাযোগ) ড. মোঃ আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন