জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন এই বাজেট কার্যকর হবে।
চলতি অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বাজেটটি অনুমোদিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয়-সংক্রান্ত ৫৯টি দাবি সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং সেগুলোর ওপর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব দাবির বিপরীতে সংসদ সদস্যরা ১ হাজার ৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব দেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর ওপর আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সেগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন। পরে সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের পক্ষে-বিপক্ষে দীর্ঘ আলোচনার পর বাজেটটি পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সোমবার (২৯ জুন) বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, এই বাজেট শুধু সরকারের বাজেট হিসেবে নয়, বরং জাতি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে দেখার আহ্বান জানাই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা। ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার এগিয়ে যেতে চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সে প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন