সেসিপ ও এসইএসডিপি প্রকল্পের আওতায় বিশেষ কাজের কথা বলে সারা দেশের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্য ও ব্যবহার খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
রাজশাহী: সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) ও এসইএসডিপি প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিশেষ কাজের নামে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি অর্থ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার আশা করছেন সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। তবে কী কাজের জন্য এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
অর্থ সংগ্রহে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন সময়ে সারা দেশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এবার একটি বিশেষ কাজের জন্য ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকা পাওয়া গেছে বলে তাঁদের দাবি।
এদিকে, ২০০৭ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের একটি অংশের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে অর্থ সংগ্রহের কারণ, অর্থের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন