চট্টগ্রাম বন্দরে কম শুল্কের পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য আনার ঘটনায় আটটি চালানে অনিয়ম উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও কাস্টমস হাউস। এসব চালানে কয়েক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির অভিযোগে আটটি চালানে বড় ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও কাস্টমস হাউস।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আসা এসব চালান পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘোষণার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেওয়া হলেও চালানে পাওয়া গেছে প্রসাধনী ও স্টেজ লাইট। টুথপিকের চালানে পাওয়া গেছে নিষিদ্ধ ক্রিম ও যৌন উত্তেজক স্প্রে। এ ছাড়া রবার বুশের আড়ালে আনা হয়েছে দামি গাড়ির যন্ত্রাংশ। হিট ট্রান্সফার পেপারের পরিবর্তে পাওয়া গেছে পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার।
এ ছাড়া স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সকাভেটর গিয়ার আমদানির ঘোষণার আড়ালে নাট-বল্টু, স্ক্রু, বিয়ারিংসহ বিভিন্ন পণ্য আনার তথ্য পাওয়া গেছে।
এনবিআরের প্রাথমিক ধারণা, এসব চালানে কয়েক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে কাস্টমসের ব্যবস্থায় লক করা একটি কনটেইনারের মূল সিল ভেঙে অন্য সিল লাগিয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও পেয়েছে তদন্তকারী দল। পরে কনটেইনারটি জব্দ করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
মন্তব্য করুন