অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভূমি অধিকার ও খাসজমির ন্যায্য বণ্টনের দাবিতে ঢাকায় ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ

ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা, খাসজমির ন্যায়সংগত বণ্টন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতির দাবিতে ঢাকায় ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভূমিহীন মানুষের ভূমির অধিকার ও ভূমি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিয়েও আলোচনা করা হয়।


ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা, খাসজমির ন্যায়সংগত বণ্টন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রথাগত ও সামষ্টিক ভূমি অধিকারের স্বীকৃতির লক্ষ্যে ঢাকায় ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ অ্যাগ্রোইকোলজি প্ল্যাটফর্মের (বিএপি) ভূমি, পরিবেশ ও আদিবাসীবিষয়ক উপদলের উদ্যোগে এবং সিএএফওডির (CAFOD) সহযোগিতায় প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কৃষক নেতা বদরুল আলমের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান।

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য ও প্রশিক্ষণ দেন উবিনীগের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনি, ইনসিডিন বাংলাদেশের গবেষক ও ক্রিকেট আম্পায়ার মুশফিকুর রহমান সাব্বির, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এএএম ফয়েজ হোসেন, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভানেত্রী লাভলী ইয়াসমিন, সাউথ এশিয়ান পিপলস ফোরামের নেতা ড. শরীফ মাসুম, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সহসভাপতি রেহেনা বেগম, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ভাসমান নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম, পটুয়াখালী জেলার কৃষক নেতা কায়েস মাহমুদ, নারী নেত্রী কাজী রেনু, নেত্রকোনা জেলার নেত্রী ও বাংলাদেশ কিষাণী সভার কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক আশা মণি, মো. আবদুর সবুর খান এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার যুবনেতা শেখ জুবায়ের আলম প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে ভূমি অধিকার ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, খাসজমির নীতি, ভূমিহীন মানুষের মধ্যে খাসজমির ন্যায়সংগত বণ্টন, ভূমি সংস্কার, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ন্যায়বিচার, কৃষিজমি রক্ষা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত, প্রথাগত ও সামষ্টিক ভূমি অধিকারের স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম বলেন, বাংলাদেশের ভূমি সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ ভূমির অসম মালিকানা, ভূমি কেন্দ্রীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ উপেক্ষিত থাকা। দেশের বিপুলসংখ্যক কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও গ্রামীণ মানুষ ভূমিহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। অথচ বিপুল পরিমাণ খাসজমি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টন, ভূমি দখলদারদের উচ্ছেদ এবং ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে জমির ন্যায়সংগত বণ্টন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার প্রসঙ্গে বদরুল আলম বলেন, তাঁদের ভূমির অধিকারকে শুধু ব্যক্তিগত মালিকানার প্রচলিত ধারণা দিয়ে বিবেচনা করা যাবে না। তাঁদের ঐতিহাসিক বসতি, প্রথাগত ব্যবহার, সামষ্টিক মালিকানা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকারকে আইনগত স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়, বন, নদী, জলাভূমি ও কৃষিজমি ধ্বংস করে মুনাফাভিত্তিক উন্নয়ন এবং ভূমি দখলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভূমি অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও অ্যাগ্রোইকোলজি একই সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে কৃষক, শ্রমিক, নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য এবং সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, ভূমি বৈষম্য, ভূমিহীনতা, জমি দখল এবং খাসজমি বণ্টনে অনিয়ম ও দুর্নীতি ভূমিহীন কৃষক, কৃষিশ্রমিক, নারী কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে বড় বাধা। রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের মধ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বণ্টন করতে হবে। তাঁদের মতে, ভূমি সংস্কার ছাড়া গ্রামীণ দারিদ্র্য, কৃষকের বঞ্চনা ও জমির অসম মালিকানার অবসান সম্ভব নয়।

বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়; এটি তাঁদের জীবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পরিচয় ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই তাঁদের প্রথাগত ও সামষ্টিক ভূমি অধিকারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তা রক্ষায় কার্যকর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। উন্নয়ন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার নামে তাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ও ঐতিহ্যগত ভূমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করারও দাবি জানান তাঁরা।

এ সময় ভূমি অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অ্যাগ্রোইকোলজির পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে বক্তারা বলেন, কৃষিজমি, জলাভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি কৃষক, কৃষিশ্রমিক, নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।

প্রশিক্ষণে ভূমি অধিকার আন্দোলন জোরদার, প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনের দাবিতে সংগঠিত উদ্যোগ গ্রহণ, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি আদায় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ও অ্যাগ্রোইকোলজি বিস্তারে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এতে কৃষক, শ্রমিক, নারী অধিকারকর্মী, যুবনেতা, গবেষক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও গণসংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যস্ত কূটনীতি

1

সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা কেন রিডিংয়ে পিছিয়ে?

2

ফুলবাড়ীতে সার ব্যবসায়ীর ১ মাসের কারাদণ্ড

3

রেমিট্যান্সে ঢাকার দাপট, সবচেয়ে পিছিয়ে রংপুর

4

গ্যাস সিলিন্ডার ও ভোজ্যতেলের বাজারে অভিযান, ৮৭ প্রতিষ্ঠানকে

5

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতন: দোষীদের বিচার ও নিরপরাধ শিক্ষ

6

এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লস ৩.২৭ শতাংশ: জ্বালানিমন্ত্র

7

১৮ বছর পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সঙ্গে রড্রিগেজের বৈঠক

8

ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ

9

বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: প্

10

সরকারি চাকরিজীবীদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, কর দিতে হবে যেসব

11

উজবেকিস্তানকে হারিয়ে শুভসূচনা চায় বাংলাদেশ, প্রস্তুত আলপিরা

12

এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৪০০ টাকা পর্

13

ফুলবাড়ীতে জমি বিরোধে বিষ প্রয়োগে আমন ধান নষ্টের অভিযোগ, ক্ষত

14

কাগজের প্লেনে বিশ্বজয়, গড়ল নতুন গিনেস রেক

15

কালবেলার ভুয়া ফটোকার্ডে বিএনপি নেতাদের নামে অপপ্রচার, ফুলবাড়

16

ঘর থেকে সংসদ: নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাঁচ দফা দাবি

17

শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইউনিলিভ

18

কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্ব

19

শহীদ জুবায়েরের বোনের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

20