বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা এবং হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা এবং হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তথ্য অধিদফতরে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপ দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনটির খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে এটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদ না থাকাকালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলেও সংসদ অধিবেশন শুরু হলে প্রথম দিনেই তা বিল হিসেবে উপস্থাপন করে পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে হয়।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে এ পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬’ জারি করা হয়।
নতুন সংশোধনীতে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান আরও স্পষ্ট করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বছর মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন, যার চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে পড়েছে—দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার।
নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে ১৪ দিন। এর মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে—একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার। এ ছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদযাপনে দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সাত দিন বাদ দিলে ২০২৭ সালে কার্যকর সরকারি ছুটির সংখ্যা দাঁড়াবে ২২ দিন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ চুক্তির মাধ্যমে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, অপরাধী আটক এবং অন্যান্য আইনি সহযোগিতার সুযোগ আরও সহজ হবে।