নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে হোসিয়ারি শ্রমিক রাসেল (১৭) নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার আদালতে নিহতের বাবা ও একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে হোসিয়ারি শ্রমিক রাসেল (১৭) হত্যার মামলায় শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ মামলার সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। এদিন সাক্ষ্য দেন নিহত রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দেওভোগ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, আদালত এদিন দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শামীম ওসমান তাঁর দলবল নিয়ে রাসেলকে গুলি করে হত্যা করেছেন। মামলার রায়ে ছেলের হত্যার সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছেন নিহতের বাবা।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, শামীম ওসমানসহ ২৭ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে রাসেল হত্যার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ছাড়া জেরার সময় বাদী জানিয়েছেন, পুলিশের লেখা এজাহারে তিনি শুধু স্বাক্ষর করেছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ মার্কেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন হোসিয়ারি শ্রমিক রাসেল। পরে ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ২৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
নিহত রাসেল নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ মার্কেটের একটি হোসিয়ারি কারখানায় অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কশব ভোলাগাড়ী গ্রামে।