শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা এবং গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলার খানসামা উপজেলার টংগুয়া বাজার ও পাকেরহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এ তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, খানসামার টংগুয়া বাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এ অনুমোদনহীন সার মজুতের অভিযোগে শুক্রবার বিকাল ৪টায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির গুদাম থেকে ২০৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
সূত্র জানায়, সার ডিলার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামে একজন তাঁর পক্ষে ডিলারের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর আড়াইটায় উপজেলার পাকেরহাটে ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-এর গুদামে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দ। নির্ধারিত সীমার বাইরে সার মজুত করে রাখার অভিযোগে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গুদাম থেকে ৪৫০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা এমওপি, বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মহিতোষ চন্দ্র চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’-এর গুদামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গুদাম থেকে ৯২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
সূত্র জানায়, পাকেরহাটে অবস্থিত ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’-এর মালিক মোজাহারুল ইসলাম বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার। তাঁর গুদামে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত সার মজুত করে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে গুদামে থাকা সার গণনা করে মোট ৯২০ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৬০ বস্তা এমওপি এবং ৬৬০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার।
খানসামা উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও অনুমোদনের বাইরে সার সংরক্ষণ করায় কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার জানান, প্রশাসনের অভিযানে জব্দ করা সার আগামীকাল স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন