
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরো জোরদার করার পাশাপাশি উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং আজ সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাঁকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং উচ্চ পর্যায়ে সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার বাণিজ্যকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও উভয় দেশের জন্য লাভজনক করতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
এ সময় বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বাড়ানোর জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরও দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন। পাশাপাশি ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।