
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, স্বাধীনতার সময় যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, তারাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো বেয়াদবদের সৃষ্টি করেছে। তাদের মাধ্যমেই দেশে এমন বেয়াদব কণ্ঠের জন্ম হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে বিরোধী দল একাধিক রয়েছে—এমন ধারণার সঙ্গে তারা একমত নন। তার ভাষ্য, প্রকৃত বিরোধী দল একটিই, সেটি হলো জামায়াত-শিবির।
এ্যানি আরও দাবি করেন, নতুন ছাত্র নেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের এন আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বাইরে দেশে দুটি রাজনৈতিক ধারা রয়েছে। একটি জামায়াত-শিবিরের, অন্যটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ধারা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়ত তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি ধৈর্য ধারণ করেছে এবং সেই সীমা এখনো অতিক্রম হয়নি।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলটির নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো কেউ অশালীন ও রুচিহীন ভাষা ব্যবহার করলে বিএনপিতে তার কোনো জায়গা নেই। এ বিষয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত সতর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইতোমধ্যে বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে বিএনপিতে কোনো বেয়াদবের প্রশ্রয়ের সুযোগ নেই।
এ্যানি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর শুধু জুলাই আন্দোলন নয়, দেশের রাজনীতিকেও বিভক্ত করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরানোর কাজ করেছে একটি পক্ষ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই লক্ষ্মীপুরে কৃষকদল নেতা সজীবকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় এসব গোষ্ঠীর ভূমিকা কোথায় ছিল—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার দাবি, তারা ১৭ বছর আন্দোলনে ছিল না; ৫ আগস্টের পর নিজেদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। এই চিত্র শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, সারা দেশেই একই রকম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, হারুনুর রশিদ বেপারী এবং লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন।