
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতেও দলটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সরকারের পাঁচ মাসের শাসনামলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও হতাশা বেড়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজেটে জনগণের ওপর কর ও ঋণের অতিরিক্ত চাপের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট আরও গভীর হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল না করা, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার উদ্যোগ বহাল রাখা, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া এবং বন্ধ থাকা ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে তাদের অবস্থানকে স্পষ্ট করছে।
কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ, মঞ্জুর মঈন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল।
বক্তারা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এবং বন্যাদুর্গতদের প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত না করার সমালোচনা করে বলেন, দেশের নেতৃত্ব সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে না।
সমাবেশ থেকে নেতারা অবিলম্বে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার সব উদ্যোগ বন্ধ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ এবং জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আপোশহীন ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।