যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত এই নেতা। গত এক দশকে তিনি দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর কার্যালয়ের সামনে বিদায়ী বক্তব্য দেওয়ার পর রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে বার্নহাম বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং তরুণদের জন্য বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ আরও বিস্তৃত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আরও বেশি আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয় টেকসইভাবে কমানোর সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত উপায় হলো মানুষের সক্ষমতায় বিনিয়োগ করা। এর মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গীকারও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
অ্যান্ডি বার্নহাম আরও বলেন, তার সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার পর সমাধান নয়, বরং আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্যর্থতার মূল্য পরিশোধের পরিবর্তে মানুষের সফলতায় বিনিয়োগ করার নীতিই অনুসরণ করবে সরকার।
তিনি ঘোষণা দেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই এই উদ্যোগ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেই তিনি প্রথম নির্দেশ দেবেন, যাতে যুক্তরাজ্যে আর কোনো মানুষকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে না হয়। এছাড়া সরকার পরিচালনার প্রতিটি স্তরে সঠিক মূল্যবোধ ও উচ্চমানের নীতি-মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।