
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির উপজেলা কার্যকরী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক শিক্ষক প্রকাশ্যে এ কমিটির গঠনপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, কমিটি গঠনের আগে উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষকের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা মতামত নেওয়া হয়নি। এমনকি কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই কমিটির বিভিন্ন পদে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, তিনি এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তাকে না জানিয়েই তার নাম কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ওই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে সকল শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে মত দিয়েছেন। ফেসবুকের মন্তব্যে এমডি নাজির হোসেন নামে এক শিক্ষক জানান, পরিকল্পনা সম্পাদক পদে তার নাম রাখা হলেও তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক মন্তব্য দেখা গেছে।
জানা গেছে, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় বছর আগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা এখনও বিচারাধীন। সংশ্লিষ্ট মামলায় কমিটি গঠনের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কমিটি গঠনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
লোহাকাচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, দেড় বছর আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের আগেই কমিটি নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ায় আদালত কমিটি গঠনে নিষেধাজ্ঞা দেন। তিনি আরও বলেন, সদ্য প্রকাশিত কমিটিতে জেলা কমিটির কোনো স্বাক্ষর না থাকায় বিষয়টি মামলা পরিচালনাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে আদালতকে অবহিত করা হবে।
অন্যদিকে, বুড়িমুটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি তেঁতুলিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম লিটন বলেন, কেন্দ্র থেকে তালিকা চাওয়ায় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পদে মনোনয়ন দেওয়া ৪৮ জনের নাম পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্র থেকেই ওই কমিটি অনুমোদন করা হয়। তিনি জানান, মামলার রায় হওয়ার পর পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো উপজেলা কমিটি দীর্ঘদিন শূন্য রাখা সম্ভব নয়। তাই চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে পূর্বে যে যেই পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, আপাতত তাকে সেই পদেই রেখে কমিটি গঠন করা হয়েছে।