
প্রেমে পড়লে মানুষ অনেক সময় চারপাশের সব হিসাব-নিকাশ ভুলে যায়। কিন্তু সেই প্রেম যদি কোনো দেশের সাবেক রাষ্ট্রনায়কের জীবনে আসে, তাহলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতেই পড়েছেন কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। শুক্রবার একদিকে ছিল দেশের ফুটবল ম্যাচ, অন্যদিকে ছিল মনের মানুষের ডাক। টরন্টোয় নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলছিল কানাডা, আর একই সময়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে মঞ্চ মাতাচ্ছিলেন কেটি পেরি। স্বাভাবিকভাবেই ট্রুডোর থাকার কথা ছিল দেশের গ্যালারিতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিলেন ভালোবাসাকেই।
দেশপ্রেম আর প্রেমের এই দ্বন্দ্বে হৃদয়ের পক্ষেই রায় দিলেন ট্রুডো। টরন্টোর মাঠ ছেড়ে তিনি উড়ে গেলেন লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে আলোঝলমলে মঞ্চে কেটি পেরি যখন সুরের মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন, দর্শকসারিতে তখন ট্রুডো শুধুই এক মুগ্ধ প্রেমিক। তবে বিশ্বজোড়া পরিচিত এই দুই তারকার পক্ষে আড়ালে থাকা সহজ ছিল না। কনসার্ট শেষে মঞ্চ থেকে নেমে এসে পেরিকে ট্রুডোকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। গ্যালারিতে বসে বিয়ারের ক্যান হাতে তাদের সেই মুহূর্ত যেন সিনেমার কোনো রোমান্টিক দৃশ্যকেও হার মানায়।
যদিও এই দৃশ্য অনেকের মন ছুঁয়েছে, কানাডার অনেক নাগরিক তা ভালোভাবে নেননি। নিজেদের জাতীয় দলের ম্যাচে উপস্থিত না থেকে প্রেমিকার কনসার্টে যাওয়াকে তারা দেখছেন দায়িত্বহীনতা হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। ক্ষুব্ধ এক কানাডিয়ান মন্তব্য করেন, এটি গোটা দেশের প্রতি এক ধরনের অসম্মান। অনেকেই ট্রুডোকে ‘প্রতারক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
তবে ট্রুডো নীরব থাকেননি। কানাডার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, মাঝে মাঝে একজন সাপোর্টিভ প্রেমিক হওয়াটাও জরুরি, তবে কাপটা কে জিতবে তা সবাই জানে। তার এই মন্তব্য সমালোচনার ঝড় কতটা থামাতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এই প্রেমের গল্পের বয়স অবশ্য খুব বেশি নয়। ৫৩ বছর বয়সী ট্রুডো এবং ৪১ বছর বয়সী পপ তারকা কেটি পেরিকে গত বছরের জুলাই থেকেই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছিল। বেশিদিন গোপন রাখেননি তারা; ডিসেম্বরেই তাদের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসে। এর আগে ট্রুডোর ১৮ বছরের সংসার ভেঙেছে সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে। অন্যদিকে কেটি পেরিও পেরিয়েছেন এক ভাঙা দাম্পত্যের অভিজ্ঞতা। দুই ভাঙা হৃদয়ের নতুন এই গল্প নিয়ে কানাডিয়ানদের আপত্তি থাকলেও, কেটি পেরি যে এমন একজন অন্ধ ও নিবেদিত প্রেমিক পেয়ে বেশ খুশি, তা বলাই বাহুল্য।