
দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষিত কর্মী ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোসাইটি অব অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ সংকট কাটাতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে নার্সের ঘাটতি পূরণ এবং টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। এমনকি ডায়ালিসিসের জন্য যন্ত্রপাতি আনা হলেও দক্ষ কর্মীর অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।
স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতেও বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলো এখনো বিভিন্ন স্থানে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করলে এ উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার সঙ্গে সমন্বয় রেখে টেকনিশিয়ান, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রামের মানুষ প্রকৃত অর্থেই যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এমনকি জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি উপযুক্ত ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
রাষ্ট্রপতি চিকিৎসকদের আরও মানবিক ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের নাগরিকদের জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যে তিনি দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সোসাইটি অব অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ডা. হাসান জাফর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ।