প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 2, 2026 ইং
মজুরি বোর্ড গঠন ঘিরে অস্থিরতা, বন্ধ ৩১৮ কারখানা: ৭ লাখ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে ৩১৮টি কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কর্মহীন হয়েছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক। পাশাপাশি ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।
মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতায় ৩১৮টি কারখানা বন্ধ এবং ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার শ্রমিকের কর্মজীবনে। এই পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিকে কেন্দ্র করে পোশাকশিল্পে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ৩১৮টি কারখানা ও সেখানে কর্মরত ৭ লাখ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যতের দায়ভার কে নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালে গঠিত মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু গত তিন বছরে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির কারণে এই মজুরি দিয়ে একজন শ্রমিকের পক্ষে পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় শ্রমিক সংগঠনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালে নির্ধারিত নতুন বেতন কাঠামোর সমপরিমাণ ন্যূনতম মজুরি পোশাকশ্রমিকদের জন্যও নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে পোশাকশিল্পে দীর্ঘদিনের সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে মোট ৪০২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর সদস্যভুক্ত ১২০টি কারখানা রয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, গত ১ নভেম্বর ২০২৬, রোববার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে কোনো প্রশ্ন না তুলে দ্রুত একটি মজুরি কাঠামো প্রণয়নের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মজুরি নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা যতদিন থাকবে, ততদিন বন্ধ হয়ে যাওয়া ৩১৮টি কারখানা এবং কর্মহীন ৭ লাখ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে।
বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন মনে করে, পোশাকশিল্পকে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থেকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে এই শিল্পকে রক্ষা করা শ্রমিক ও নাগরিকদের দায়িত্ব। শিল্পের সুরক্ষা এবং শ্রমিকের মর্যাদা—দুটিই সমান গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দিনের সংবাদ অনলাইন