প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 2, 2026 ইং
এসইএসডিপি প্রকল্পে ৮ কোটি টাকা চাঁদা সংগ্রহের অভিযোগ

মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন প্রকল্পের (এসইএসডিপি) আওতায় বিশেষ কাজের কথা বলে সারা দেশের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা চাঁদা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন প্রকল্পের (Secondary Education Sector Development Project—এসইএসডিপি) আওতায় বিশেষ কাজের কথা উল্লেখ করে দেশের বিভিন্ন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হিসাবে সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকটা প্রকাশ্য হলেও কী উদ্দেশ্যে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৭ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের একটি অংশের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। এদিকে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রমিক, পেশাজীবী, সামাজিক ও গোপন সংগঠনের মতো তারাও তৎপরতা চালাতে পারেন।
অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। এ সময় তাঁরা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সারা দেশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এবার একটি বিশেষ কাজের জন্য ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা তোলার কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। বাকি অর্থ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তবে কী ধরনের বিশেষ কাজের জন্য এই বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অর্থের প্রকৃত ব্যবহার কী হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।
এ পরিস্থিতিতে দেশের সচেতন মহলের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড এবং তাঁদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে সরকার ও রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দিনের সংবাদ অনলাইন