প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 31, 2026 ইং
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আশার আলো

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থমকে থাকা যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মধ্যস্থতার উদ্যোগে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখলেও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় এগিয়ে নিতে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার উদ্যোগে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। তবে কিছু পক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের পর এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এলো।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। চলতি মাসে তিনি দুই দফায় ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছেন। সর্বশেষ গত সোমবারের সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। তেহরানে তাঁরা ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তাঁদের এই সফরের পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত চুক্তিটির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক সমীকরণে চুক্তিটির গুরুত্ব বেড়েছে।
এই চুক্তিতে ইরানের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র। তিনি জানান, চুক্তির শর্তে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। যৌথ প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক শান্তির বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, এমন দেশগুলোকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে চুক্তির তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে।
অন্যদিকে, তেহরানে বৈঠকের পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে নেই। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, কিছু প্রভাবশালী পক্ষ এখনো সংঘাত অব্যাহত থাকাকে নিজেদের স্বার্থের জন্য সুবিধাজনক মনে করছে। এসব পক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এদিকে, একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও তেহরান সফর করেছেন। জুনে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাঁদের এই সফর বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যকার উত্তেজনাও নতুন করে বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ধারাবাহিক তেহরান সফর, সৌদি আরব ও তুরস্কের অংশগ্রহণ এবং কাতারের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত অবসানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দিনের সংবাদ অনলাইন